বয়সের ভারে দুর্বল হয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ফারাক্কা সেতু। প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে সেতু মেরামতের। দীর্ঘ ৪০ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে সেতুটি মেরামত হয়নি। চার দশক পর এবার সেতু মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ফারাক্কা সেতু সংস্কার করা হচ্ছে। আগামী পয়লা অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ফারাক্কা সেতুর মেরামতকাজ, চলবে ছয় মাস। তবে প্রথম ৩৫ দিন এই সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না হলেও নভেম্বর থেকে শুরু হবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ। এই সময়ে বিকল্প একটি সেতু দিয়ে চলাচল করবে পরিবহন।
এবার এই সেতু মেরামতের জন্য ১০ কোটি ৭৬ লাখ রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের আগে ফারাক্কা বাঁধের জেনারেল ম্যানেজার শৈবাল ঘোষ ফারাক্কা বাঁধের প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাঁধ ও সেতু মেরামত নিয়ে আলোচনা করেন।

ফারাক্কা সেতু মুর্শিদাবাদের গঙ্গা নদীর ওপর তৈরি হয়েছে। লম্বায় এটি ২ হাজার ২৪৫ মিটার। এখানে রয়েছে ১০৯টি স্লুইসগেট গেট। প্রতিদিন এই সেতু ও বাঁধের ওপর দিয়ে ১২ হাজার ৭০০ যানবাহন চলাচল করে। ১৯৬১ সালে এই বাঁধ ও সেতু নির্মাণ শুরু হয়, শেষ হয় ১৯৭৫ সালে। এই সেতু খোলা হয় ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল। আর বাংলাদেশের সঙ্গে ফারাক্কার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদিত হয় ১৯৯৬ সালে।

কলকাতার মাঝের হাটে উড়াল সেতু বিপর্যয়ের পর টনক নড়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের। রাজ্য সরকার রাজ্যের উল্লেখযোগ্য সেতুর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে ফারাক্কা সেতুর সংস্কার হচ্ছে।

ফারাক্কা বাঁধ ও সেতুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের। রাজ্যগুলো হলো আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড। সেই সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও এটি সংযুক্ত রয়েছে।