মাসব্যাপী চলছে এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল। এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই চারুকলা প্রদর্শনীতে অন্য রকম এক পরিবেশনায় অংশ নিয়েছে মীর রাব্বি ও ফারহানা আপন। সম্প্রতি ঢাকার শিল্পকলার একাডেমির চিত্রশালার পারফরম্যান্স আর্ট গ্যালারিতে ‘গ্রে লিরিকস অব দ্য নেচার’ শিরোনামের এই পরিবেশনায় অংশ নেন তাঁরা। পরিবেশ দূষণরোধে এই পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রথম আলোকে জানান মীর রাব্বি।

রাব্বি জানান, ‘গ্রে লিরিকস অব দ্য নেচার’ শিরোনামের এই পরিবেশনায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্ট আবর্জনা ও তার প্রভাবের বিষয়টি। দৈনন্দিন জীবনযাপনে প্রয়োজনের তাগিদে সৃষ্টি হচ্ছে অকল্পনীয় বর্জ্য। যার সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে প্লাস্টিক ও ই-বর্জ্য। প্লাস্টিক নিয়ে আমাদের সচেতনতা না থাকায়, এর ভয়াবহতা এখনো বুঝতে পারছি না। দৃশ্যমান ক্ষতি বা ভয়াবহতার পাশাপাশি পি-১ ধরনের প্লাস্টিক আমাদের শরীরে মিশে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সমুদ্র থেকে বনভূমি, সবকিছুই প্লাস্টিকের কবলে প্রাণ হারাচ্ছে। অপরদিকে ই-বর্জ্যর প্রভাব আরও ভয়াবহ।

রাব্বি বলেন, ‘প্রযুক্তি যেমন আমাদের অনেক কিছুই সহজ করে দিয়েছে, ঠিক ভয়াবহ হয়ে উঠছে এর বর্জ্যগুলো। ই-বর্জ্যকে পারমাণবিক বোমার মতো ক্ষতিকর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ই-বর্জ্যের কারণে পৃথিবী ও প্রাণিকুল খুব শিগগিরই মহামারির মধ্য পড়তে যাচ্ছে। সে সম্পর্কে একটি সচেতনতা তৈরির জন্য ফারহানা ও আমার এই পরিবেশনা।’

মীর রাব্বি আরও জানান, আর্ট বিয়ানেলের শুরুতে, ‘শিল্পের শহর ঢাকা’ নামে একটি আয়োজনে তাঁরা দুজন শব্দদূষণ ও তার ভয়ানক মানসিক প্রভাব নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে একটি পরিবেশনায় অংশ নেন, যা ১৮তম এশিয়ান আর্ট বিয়ানেলে স্থান পেয়েছে।

১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। উদ্বোধনীতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক তেতসুইয়া নোদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মাসব্যাপী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সব শ্রেণির দর্শকের জন্য খোলা থাকছে। ১৯৮১ সালে ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছিল এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল। এ বছর এ আয়োজন ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকায়। এবার ৬৮টি দেশ এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে, যা এযাবৎকালের রেকর্ড।