হতাশার বিশ্বকাপ শেষে লিওনেল মেসি সাময়িক বিরতি নিয়েছেন আর্জেন্টিনা দল থেকে। সেটিই চিরকালীন বিদায় হয়ে যাবে কি না, নিশ্চিত নন আর্জেন্টিনার আপৎকালীন বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনি

২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর এই প্রচারণাতেই তো নেমেছিল বলতে গেলে পুরো আর্জেন্টিনা। ওই হারের পরই জাতীয় দলের জার্সিটাকে বিদায় বলে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। মেসি আর থাকবেন না, মানতে নারাজ আর্জেন্টাইনরা তখন নেমেছিল তাঁর পানে অনুরোধের ডালি সাজিয়ে। কত খোলা চিঠি, শত অনুরোধ আর অনেক মিছিলের পর দুই মাস বাদেই ফিরে এসেছিলেন মেসি।

আবার সেই ছবিটাই হয়তো দেখা যাবে। মেসি এবার কোনো ঘোষণা দেননি, কিন্তু আবার কখনো আকাশি নীল-সাদা জার্সিটা গায়ে জড়াবেন, সেটিও সংশয়ে! আর্জেন্টিনার দায়িত্বে অস্থায়ী নিয়োগ পাওয়া কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজেই এই শঙ্কার কথা যখন বলছেন, বিষয়টি ভাবায় বটে।

২০১৬-তে যা ছিল কোপা আমেরিকা, মেসির জন্য এবার তা বিশ্বকাপ। রাশিয়াই ৩১ বছর বয়সী মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, তা তো ধরেই নিয়েছেন অনেকে। দুর্বল একটা দলে তিনি ছিলেন বলেই শিরোপার প্রায় অবাস্তব একটা স্বপ্নও দেখেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিশ্বকাপটা হয়ে রইল দুঃস্বপ্ন। হাঁচড়ে-পাঁচড়ে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের হাতে সে স্বপ্ন খুন।

কিন্তু সেবারের মতো এবার আর ঝটপট সিদ্ধান্ত নেননি মেসি। কোনো ঘোষণা দেননি। ঘোষণা কী, কিছুই বলেননি। পুরো স্পিকটি নট। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁকে আবার দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনায় শঙ্কার মেঘ এনে দিয়েছে একটা ফোনকল। সেপ্টেম্বরে গুয়াতেমালা ও কলম্বিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ দুটির দল ঘোষণা হয়েছে কিছুদিন আগে। সে সময় আর্জেন্টিনার অস্থায়ী কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ফোন করে মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, ২০১৮ সালে আর জাতীয় দলে খেলছেন না। কখন ফিরবেন, নিশ্চিত নয়। ফলে আপাতত তাঁকে যেন বিবেচনা না করা হয়।

আদৌ কি ফিরবেন? নাকি নীরবে নির্বাসনই নিলেন? প্রশ্নগুলো বাতাসে ঘুরছে। ঘুরতে ঘুরতে গত মঙ্গলবার প্রশ্ন ছুটে গেল স্কালোনির দিকে। আর্জেন্টিনা কোচের উত্তর শঙ্কা মোটেও কমায়নি, ‘আমি ওর সঙ্গে কথা বলেছি। ওকে এই ম্যাচগুলোর দলে রাখা হয়নি। সত্যি বলতে, ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।’

স্কালোনি কিছু পরিষ্কার বলছেন না বলেই শঙ্কাটা বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের ম্যাচ দুটির দল ঘোষণার সময় আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমও দুদিকই খোলা রেখেছিল। একদিকে জানিয়েছিল, এ বিরতি সাময়িক, আগামী বছর ব্রাজিলে কোপা আমেরিকার আগে ফিরবেন মেসি। সঙ্গে শঙ্কার গুড়গুড়ানি ছিল, আর নাও তো ফিরতে পারেন।

মেসি তো নয়ই, মেসির পরিবার বা আপনজনদের কেউও কিছু বলছেন না জাতীয় দল নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে। ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গেই আর্জেন্টিনা দলে থাকা স্কালোনি তাই ভবিষ্যতেই তাকিয়ে, ‘আমরা সবাই জানি, ও আমাদের জন্য কী। দেখা যাক কী হয়। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেক ভালো। আমাদের মধ্যে আলাপনটা অনেক ভালোই হয়েছে, দুজনই পরিষ্কার সব বলেছি। ও এই দুটি ম্যাচের দলে নেই। ভবিষ্যতে কী হয়, সেটা তখন দেখব।’

তবে এতটুকু জানিয়েছেন স্কালোনি যে এই দুই ম্যাচের জন্য যাদের বিবেচনা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে শুধু মেসিই জানিয়েছেন, তিনি থাকছেন না। বাকিদের দলে জায়গা পাওয়া-না পাওয়া স্কালোনিরই সিদ্ধান্ত। যে সিদ্ধান্তে আপাতত দলে জায়গা হয়নি সার্জিও আগুয়েরো, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, হিগুয়েইনদের। বরং দিবালা-ইকার্দি-লো সেলসোদের পাশে ডাক পেয়েছেন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, স্ট্রাইকার লওতারো মার্তিনেজ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোচ ডিয়েগো সিমিওনের ছেলে জিওভান্নি সিমিওনের মতো উঠতি তারকারা।

‘(মেসি ছাড়া) কোনো খেলোয়াড়ই আমাকে বলেনি তারা জাতীয় দলে খেলতে চায় না। সব সিদ্ধান্ত জাতীয় দলের ভালোর জন্য নেওয়া। ভবিষ্যতের জন্য কী করা যায়, সেটা দেখতে চাওয়া। আমাদের কাছে এটা পরিষ্কার যে নতুন এই যাত্রায় আরও অনেক খেলোয়াড়কে টানতে হবে। আমাদের মনে হয়ে এই মুহূর্তে এই খেলোয়াড়দেরই দরকার। সময় হয়েছে নতুন করে সাজানোর। আর এই খেলোয়াড়দের ডাকার সময় এখনই’—আত্মবিশ্বাস ঝরেছে স্কালোনির কণ্ঠে।